
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মোড়লের বিরুদ্ধে। নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১ টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার ১০ নম্বর সুখিয়া ইউনিয়নের হরশী বানিপাট্টা গ্রামে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে টাকা দিয়ে ভোট কেনার সময় স্থানীয়দের হাতে ১০ থেকে ১২ জন আটক হন।
আটক ব্যক্তিরা নিজেদের জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও সমর্থক বলে পরিচয় দেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন-সুখিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আমিনুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন, ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত আমির আলম মুন্সী, ৫ নম্বর ওয়ার্ড আমির গোলাপ মিয়া, ইউনিয়ন কেন্দ্র কমিটির কোষাধ্যক্ষ রুবেল, ইউনিয়ন কমিটির সদস্য হানিফা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইকরামসহ সারোয়ার, জাকির, কদ্দুস, নুরু মিয়া, খাইরুল ও শরীফ।
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। ভিডিওগুলো শেয়ার করে অনেকেই মন্তব্য করেন, ‘ইনসাফের কথা বলা দল রাতের আঁধারে গ্রামের সহজ-সরল নারী ভোটারদের ভোট কেনার চেষ্টা করছে।
এ ঘটনায় ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে সুখিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম আহমেদ লেখেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পাকুন্দিয়া উপজেলার ১০ নম্বর সুখিয়া ইউনিয়নের হরশী ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মধ্যরাতে ভোট কিনতে গিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা হাতেনাতে ধরা পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট কেনার উদ্দেশ্যে সাদ্দাম হোসেন ও তার সহযোগীরা হরশী বানিপাট্টা গ্রামের হারিস মিয়ার বাড়িতে গোপন বৈঠক করেন। এ সময় এলাকায় অপরিচিত লোকজনের উপস্থিতি দেখে স্থানীয়রা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ১৫-২০ জন সেখানে জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও বাকিদের আটক করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, আটক ব্যক্তিরা নিজেদের জামায়াতের কর্মী পরিচয় দিয়ে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে বিশৃঙ্খলা এড়াতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, জামায়াতের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। যেখানে নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ, সেখানে রাতের আঁধারে অন্য এলাকায় গিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। বিষয়টি আমি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মোড়ল কিংবা তার দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন
You cannot copy content of this page