
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে অভূতপূর্ব ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো আকাশপথে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও নৌবাহিনী যৌথভাবে এই বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাতিয়ার দুর্গম চরাঞ্চল ও সমতলের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর আশপাশে ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। এসব ড্রোন আকাশ থেকে সরাসরি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পাঠাবে, ফলে যেকোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ড্রোন থেকে প্রাপ্ত লাইভ ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণের জন্য নৌবাহিনী স্থাপন করেছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। নৌবাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে ইতোমধ্যে হাতিয়া ও সন্দ্বীপসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে টহল ও নজরদারি জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সমগ্র নির্বাচনী এলাকায় একটি সমন্বিত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
কোনো কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা গোলযোগের আভাস পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে নৌবাহিনীর কিউআরএফ (Quick Response Force) বা ভ্রাম্যমাণ দল। প্রয়োজন হলে দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছাতে হেলিকপ্টার সহায়তাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের শরীরে থাকবে বডি-অর্ন ক্যামেরা, যার মাধ্যমে প্রতিটি কার্যক্রম রেকর্ড হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রশাসনের মতে, এই প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো হাতিয়ার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। ইতোমধ্যে নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাতিয়া সফর করে মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি পর্যালোচনা ও সমন্বয় সম্পন্ন করেছেন।
নির্বাচনকে ঘিরে এমন বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ভোটারদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন
You cannot copy content of this page