দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি ও শেখ রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ গত বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
এদিন দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর তাঁকে গ্রেপ্তারে নোটিশ জারির আবেদন করেন।
শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করে আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদকের আবেদনে বলা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো টাকা পরিশোধ না করেই অবৈধ পারিতোষিক হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে রেজিস্ট্রি দলিল মূলে ফ্ল্যাটের দখল বুঝে নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, হস্তান্তরযোগ্য নয়-এমন একটি প্লটে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডকে বহুতল ভবন বানিয়ে ফ্ল্যাট আকারে বিক্রির সুযোগ করে দেন টিউলিপ সিদ্দিক। এর বিনিময়ে আবাসন কোম্পানিটির কাছ থেকে একটি ফ্ল্যাট ঘুষ হিসেবে নেন এ ব্রিটিশ এমপি। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার আগেই টিউলিপ সিদ্দিক দেশত্যাগ করেছেন এবং মামলা প্রমাণে সহায়ক প্রমাণদি ও আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। এজন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন।
তবে ইতোমধ্যে দেশত্যাগ করায় তাঁকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিস’ জারি করা প্রয়োজন। ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ‘ঘুষ’ হিসেবে ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল টিউলিপ, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৬৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি ইমাম হোসেন চৌধুরী গুলশানে ১ বিঘা ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক আয়তনের একটি প্লট (বর্তমান ১১এ ও ১১বি) বরাদ্দ পান। সরকারি লিজ চুক্তি অনুযায়ী, ৯৯ বছরের মধ্যে ওই প্লট হস্তান্তর বা ভাগ করে বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল।
You cannot copy content of this page