হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের নলেরচর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর নির্যাতনে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ তাজনেহার বেগম ওরফে তান্না বেগম (৩০) তিন সন্তানের জননী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাতিয়া উপজেলার ২নং চানন্দী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আল-আমিন গ্রামের বাসিন্দা মিলন উদ্দিন, যিনি এলাকায় ‘চোরা মিলন’ নামে পরিচিত। তিনি স্থানীয় বিএনপির একজন কর্মী বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে এলাকায় নানা ধরনের অপকর্মের অভিযোগও রয়েছে এবং একাধিক বিয়ের কারণেও তিনি এলাকায় পরিচিত।
কিছুদিন আগে তিনি এলাকার এক স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে বিয়ে করেন। এ বিষয়টি নিয়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী তাজনেহার বেগম (তান্না) প্রতিবাদ করলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত বুধবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে নিজ বসতঘরে ঝগড়ার এক পর্যায়ে মিলন উদ্দিন তার স্ত্রীকে রাতভর মারধর করেন। স্থানীয়দের দাবি, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কয়েক দফায় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
পরে বৃহস্পতিবার ভোরে গুরুতর আহত অবস্থায় তান্না বেগম পাশের বাড়িতে তার বোনের কাছে আশ্রয় নিতে গেলে অভিযুক্ত স্বামী সেখানে গিয়ে তাকে ও তার বোনকে মারধর করে আবার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে আনার পর একটি মোটা গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করলে তান্না বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, প্রথমে ঘটনাটিকে বিষপানে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে নিহতের কিশোর ছেলে ইমন উপস্থিত লোকজনকে একটি গাছের ডাল দেখিয়ে দাবি করে, তার বাবা ওই ডাল দিয়ে তার মাকে আঘাত করলে তিনি মারা যান।
নিহত তাজনেহার বেগম তমরদ্দি ইউনিয়নের ক্ষিরোদিয়া গ্রামের ‘গাড়িওয়ালাগো বাড়ি’র আবদুল জলিলের মেয়ে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মোরশেদ বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. শহিদ উল্যাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন,
“ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
You cannot copy content of this page