নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার হেদায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামারুল ইসলাম কচির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া নিয়োগ, সহকারী শিক্ষককে অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করা, অবৈধভাবে আরেকটা ক্যাম্পাস তৈরি করে শিক্ষকদের ক্যাম্পাস পরিবর্তনের হুমকি দিয়ে জিম্মি করে হয়রানি ও বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ করে। অর্থ আত্মসাৎ এর সাথে জড়িত হাতিয়ার হল সহকারী শিক্ষক ছায়েদল হক ও বাবু মহলাল দাস। দুইজনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাই। বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি ৯৮ টাকার পরিবর্তে একক সিদ্ধান্তে ৫০০ টাকা নেয়া হয়েছে। বেতন অনিয়ম এবং বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতিসহ একাধিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মানিক উদ্দিন আহমদ (মানিক লাল) সম্প্রতি দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধান শিক্ষক কামারুল ইসলাম কচি ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার একটি ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কাটিং ব্যবহার করে কামরুল ইসলাম রবিন নামের এক ব্যক্তিকে লোকাল কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এছাড়া এই শিক্ষক লোকাল কমিটির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তাকে “এরিয়া বেতন” দেখিয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রাজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮২৪ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এই অর্থ প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং অনেক সময় বিদ্যালয়ে না এসেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এমনকি হাজিরা খাতা নিজের জিম্মায় রাখার কারণে কোনো শিক্ষক তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মানিক উদ্দিন আহমদ জানান, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরে তিনি আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৫৪/২৩), যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায়ও প্রধান শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) ভুল তথ্য প্রদান করে তার ইনডেক্স বাতিল করান এবং জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-তে শূন্য পদ দেখিয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগের আবেদন করেন।
স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক কামারুল ইসলাম কচির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুর উদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দুদকের মাধ্যমে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
You cannot copy content of this page