
রিয়াজুল ইসলাম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আশি ও নব্বইর দশক এবং একবিংশ শতকের শুরুতেও দেশে বিএনপির রাজনীতিতে দুই কিংবদন্তি, একজন কে এম ওবায়দুর রহমান, অপরজন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। সময়ের পরিক্রমায় তাদের প্রয়াণের পর সেই শূন্যস্থানে নাম লেখালেন তাদের উত্তরসূরি দুই কন্যা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তারা বিজয়ী হয়েছেন।
তাদের মধ্যে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগীয়) পদে রয়েছেন। এ ছাড়া ফরিদপুর-৩ (সদর) আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। দুজনেই প্রথমবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম
তাঁর বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান দক্ষিণবঙ্গের সিংহপুরুষ হিসেবে খ্যাত ছিলেন। ১৯৪০ সালে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের খন্দকার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রজীবন থেকেই। এক পর্যায়ে সত্তরের দশকের শেষের দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নেই সক্রিয় হয়ে উঠেন।
তিনি দলটি থেকে তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং একবার বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। জনগণ আমাকে যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন, আমি সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে চাই।
নায়াব ইউসুফ আহমেদ
নায়াব ইউসুফ ফরিদপুর শহরের কমলাপুর মহল্লার ঐতিহ্যবাহী ময়েজ মঞ্জিলের বাসিন্দা। তাঁর বাবা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ফরিদপুরে বিএনপির ভিত্তি নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘আমার কাজের মধ্যে দিয়ে ফরিদপুর সদরকে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যাব। দলমত নির্বিশেষে এই ফরিদপুরবাসীর জন্য আমি কাজ করে যাব। সবাই মিলে বৈষম্যহীন চাঁদাবাজ মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত উন্নয়নের ফরিদপুর গড়ে তুলব। ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন নায়াব ইউসুফ আহমেদ।
মন্তব্য করুন
You cannot copy content of this page