
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। নোয়াখালীর রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা চুলচেরা বিশ্লেষণ। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড- এসব বিবেচনায় কয়েকজন নারী নেত্রীর নাম আলোচনায়। তবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষত হাতিয়া উপজেলা বিএনপি নেত্রী ফৌজিয়া সাফদার সোহেলীর নাম জোরালোভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে হাতিয়া বিএনপির রাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো, মামলা ও হামলার শিকার কর্মীদের সহযোগিতা করা এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ নেয়ার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে হাতিয়ার মানুষের সমস্যা ও দাবি তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তাকে সক্রিয় দেখা গেছে। নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন ও জনমত গঠনের কার্যক্রমেও তার অংশগ্রহণ রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ মনে করেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনে দ্বীপাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে হাতিয়াসহ উপকূলীয় এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা জাতীয় সংসদে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপিত হবে।
এদিকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নকে ঘিরে বিএনপির ভেতরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, মহিলা দলের পাশাপাশি অতীতে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেত্রীরাও এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন।
দলীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে এ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় লাভ করে। আসন অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে দলটি পাবে ৩৫টি। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি আসন পাবে। বাকি ৩টি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে।
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়ন ঈদের আগে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
মন্তব্য করুন
You cannot copy content of this page